পূজায় বামেদের বইয়ের স্টল বিতর্ক: পুলিশ-প্রশাসনকে শাণিত বার্তা মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের

"ধর্ম যাদের চোখে ‘আফিম’, দুর্গোৎসবে তাদের মতাদর্শ প্রচার কেন?" প্রশাসনকে কড়া বার্তা মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের

পূজামণ্ডপে বিদেশী ভাবধারা নয়, বিক্রি হোক বঙ্কিম ও আবুল কালামের বই: সরব আইনজীবী সৈয়দ আলি আফজাল চাঁদ

আসন্ন শারদোৎসবের প্রাক্কালে ধর্মীয় উৎসবের পবিত্র প্রাঙ্গণে বামপন্থীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও প্রকাশনা বিপণি নিয়ে এক অত্যন্ত শাণিত ও নীতিগত বিতর্ক উসকে দিল আরএসএস (RSS)-এর সহযোগী সংগঠন 'মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ' (MRM)। সনাতন সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজার প্রাঙ্গণকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা নাস্তিক্যবাদী মতাদর্শ প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে প্রশাসনের উদ্দেশে স্পষ্ট ও সুদৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব।

মঞ্চ থেকে ক্ষুরধার ও যুক্তিনিষ্ঠ বক্তব্য উপস্থাপন করে মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের পূর্বাঞ্চলীয় আহ্বায়ক তথা বিশিষ্ট আইনজীবী সৈয়দ আলি আফজাল চাঁদ বামপন্থীদের আদর্শিক দ্বিমুখী নীতিকে কাঠগড়ায় তোলেন। তিনি অত্যন্ত তীব্র ভাষায় প্রশ্ন রাখেন— "যেখানে ভক্তি, ঐতিহ্য ও সনাতন বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে মা দুর্গার আবাহন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে আজীবন ধর্মকে ‘আফিমের নেশা’ আখ্যা দিয়ে আসা এবং ধর্মীয় আচারকে উপহাসকারী কমরেডরা কোন যুক্তিতে উপস্থিত হবে? যারা বিশ্বাসই করে না, তাদের উৎসবের আঙিনায় রাজনৈতিক প্রচারের কোনো নৈতিক অধিকার নেই।"

উৎসব প্রাঙ্গণে বাম প্রকাশনার অনুমতি প্রদান প্রসঙ্গে পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর সতর্কতা উচ্চারণ করেন আইনজীবী আলি আফজাল চাঁদ। তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, কোনো কর্মকর্তা যদি গণভাবাবেগ ও উৎসবের পবিত্রতাকে উপেক্ষা করে এমন একপেশে ছাড়পত্র প্রদান করেন, তবে তাকে আইনি ও প্রশাসনিক স্তরে চরম জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে। প্রশাসনের কর্তব্য উৎসবের শৃঙ্খলা রক্ষা করা, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শকে উৎসবের ছায়ায় প্রশ্রয় দেওয়া নয়।

বাম রাজনীতির জাতীয়তাবাদী অবস্থান নিয়েও মঞ্চ থেকে এক গভীর দার্শনিক প্রশ্ন তোলা হয়। বক্তা উল্লেখ করেন, "নিজেদের প্রচারপত্রে আজও কেন ‘ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি’ শব্দবন্ধের বদলে ভিন্ন আঙ্গিক ব্যবহার করা হয়? যাদের তাত্ত্বিক আনুগত্য ঐতিহাসিক কাল থেকেই বহিরাগত শক্তির ওপর নির্ভরশীল, তারা দেশের মাটির উৎসবের ভাবাবেগ বুঝবে কী করে?" কমরেডদের প্রতি শালীন অথচ শাণিত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন— "মণ্ডপ প্রাঙ্গণে যদি সাহিত্য বিক্রি করতেই হয়, তবে মাও সে তুং-এর মতো বিদেশী মতাদর্শের বদলে ভারতমাতার জয়গান করা হোক। প্রচার করা হোক ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেশপ্রেমের আদর্শ এবং মৌলানা আবুল কালাম আজাদের মতো জাতীয়তাবাদী মনীষীদের সাহিত্য।"

মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির এই তাৎপর্যপূর্ণ সম্মেলনে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য কোর কমিটির সহ-আহ্বায়ক আসাদুল বিশ্বাস, রাজ্য নেতা এমদাদুল ইসলাম সহ বিজেপি ও সংঘ পরিবারের স্থানীয় নেতৃত্ব— শম্ভু বাবু, লক্ষণ বাবু, হিলটন ঘোষ এবং কিরণ সরকার সহ মঞ্চের বহু কার্যকর্তা। শারদোৎসব শুরুর আগেই মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের এই নীতিগত আক্রমণ নিঃসন্দেহে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার সূচনা করল।

সম্পাদকীয় তথ্য ও দায়মুক্তি (Editorial Disclaimer): এই প্রতিবেদনের সমস্ত প্রত্যক্ষ তথ্য, অডিও-ভিডিও নথি এবং মঞ্চের বিবরণ সরাসরি সরেজমিনে সংগ্রহ করেছেন 'নেটওয়ার্ক বাংলা'র প্রধান সম্পাদক রাহিন আলম। এটি একটি ১০০% মৌলিক, বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে উল্লেখিত সমস্ত বক্তব্য বক্তা ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নিজস্ব রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিমত। প্রেস কাউন্সিল ও ডিজিটাল মিডিয়া এথিক্স মেনে জনস্বার্থে তথ্য পরিবেশন করাই এর একমাত্র উদ্দেশ্য।
সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ: রাহিন আলম (চিফ এডিটর) | মূল উৎস: নেটওয়ার্ক বাংলা

প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক

রাহিন আলম

নেটওয়ার্ক বাংলা

Post a Comment

Previous Post Next Post