বাড়ি থেকে ১৫ কিমি দূরে পুকুরপাড়ে মিলল ক্ষতবিক্ষত দেহ! ফোনে ডেকে নিয়ে গিয়ে বারাসাতের টোটো চালককে নৃশংস খুন, নেপথ্যে কি রাজনৈতিক আক্রোশ?
শাসন, উত্তর ২৪ পরগনা (নেটওয়ার্ক বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক): রাতের অন্ধকারে রহস্যজনক একটি ফোনের পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন যুবক, আর পরদিন সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে মিলল তাঁর নিথর ক্ষতবিক্ষত দেহ। উত্তর ২৪ পরগনার শাসন থানার অন্তর্গত গোলাবাড়ি টাকি রোডের ধারের একটি পুকুর সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে সঞ্জীব দাস (৩২) নামের ওই যুবকের রক্তাক্ত দেহ। পেশায় টোটো চালক ওই যুবকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর চাউর হতেই চরম উত্তেজনা ও তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রাত প্রায় ১১টা নাগাদ একটি ফোন পেয়ে তড়িঘড়ি বাড়ি থেকে বের হন বারাসাতের বাসিন্দা সঞ্জীব। কিন্তু গভীর রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরিবারের লোকজন দফায় দফায় তাঁর মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা চালালেও কোনো সাড়া মেলেনি। আজ সকালের দিকে শাসনের গোলাবাড়ি এলাকায় টাকি রোডের পাশে একটি জলাশয়ের পাড়ে রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে শনাক্ত করেন নিথর দেহটি সঞ্জীবেরই।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদেহের একাধিক জায়গায় ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের দাগ স্পষ্ট। নির্জন এলাকায় যেভাবে দেহটি পড়ে ছিল, তাতে প্রাথমিক তদন্তকারীদের অনুমান— অন্য কোনো স্থানে ডেকে এনে নৃসংশভাবে খুন করার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দেহটি এখানে ফেলে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি রাজনৈতিক আক্রোশের অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার। পরিবারের দাবি— সঞ্জীব নিজে প্রত্যক্ষ দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও, তাঁর দাদা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একজন সক্রিয় পদাধিকারী। দাদার সেই দলীয় পরিচিতির কারণেই রাজনৈতিক শত্রুতা থেকে সঞ্জীবকে ছক কষে ডেকে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে শাসন থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। রাতে কার ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন সঞ্জীব, তা নিশ্চিত করতে তাঁর কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) খতিয়ে দেখে মূল অভিযুক্তদের সন্ধানে জোর তদন্ত শুরু করেছে শাসন থানার পুলিশ।
