দুর্গাপূজায় মুখ্যমন্ত্রীর একগুচ্ছ বড় ঘোষণা: পুজো অনুদান ও বিদ্যুৎ বিলে বিপুল ছাড়, ডিজে বাজালে কড়া ব্যবস্থা

দুর্গাপূজা উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা পুজো অনুদান ও গাইডলাইন

নবান্ন ও পুলিশ-প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠক; মণ্ডপ ব্যবস্থাপনা, নারী সুরক্ষা এবং শব্দদূষণ রোধে কড়া নির্দেশিকা জারি

লকাতা (নিজস্ব প্রতিনিধি): কঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজাকে সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর করে তুলতে নবান্ন এবং পুলিশ-প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের নিয়ে বড়সড় সমন্বয় বৈঠক সারলেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজো উদ্যোক্তাদের আর্থিক স্বস্তি দেওয়ার পাশাপাশি মণ্ডপ ব্যবস্থাপনা, নারী সুরক্ষা এবং শব্দদূষণ রোধে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে এদিনের বৈঠক থেকে। সাধারণ দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্লাবগুলির সুবিধার্থে নেওয়া হয়েছে একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।

এবারের পুজোয় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি পুজো কমিটিকে আর্থিক অনুদান প্রদানের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, যা ছোট ও মাঝারি ক্লাবগুলির উৎসবের খরচ সামলাতে বড় ভূমিকা নেবে। পুজো উদ্যোক্তাদের খরচের বহর কমাতে বিদ্যুৎ মাশুলে বিশেষ সরকারি ছাড় কার্যকর থাকছে। এর পাশাপাশি দমকলের লাইসেন্স ফি সম্পূর্ণ মুকুব রাখা হয়েছে এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে সমস্ত প্রশাসনিক ছাড়পত্র এক ছাতার তলায় দিতে চালু থাকছে ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম’। ফলে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরে অযথা হয়রানির শিকার হতে হবে না।

ভিড় সামাল দেওয়া এবং মণ্ডপের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এবার বাড়তি কড়াকড়ি আরোপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিটি মণ্ডপের কাঠামো যথাসম্ভব খোলামেলা ও অগ্নিনিরোধক হতে হবে, যাতে আলো-বাতাস চলাচলের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বাইরে বের হওয়ার পথ (Emergency Exit) উন্মুক্ত থাকে। মণ্ডপ চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যাজধারী নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক রাখতে হবে ক্লাবগুলিকে। উৎসবের দিনগুলিতে মহিলা ও শিশুদের সার্বিক সুরক্ষায় সাদা পোশাকের পুলিশ ও বিশেষ মহিলা উইনার্স টিম শহর থেকে জেলার অলিগলিতে সার্বক্ষণিক টহল দেবে।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এবারও প্রশাসনকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপ কিংবা শোভাযাত্রায় কানফাটানো ডিজে (DJ) সাউন্ড বক্স বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অমান্য করে কোথাও মাত্রাতিরিক্ত শব্দে বক্স বাজলে সংশ্লিষ্ট সাউন্ড অপারেটর ও উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেবে পুলিশ। একই সঙ্গে যানজট এড়াতে প্রধান রাস্তার ওপর বড় তোরণ না করার এবং জরুরি পরিষেবার জন্য সার্বক্ষণিক ‘গ্রিন করিডর’ প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইউনেস্কোর ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই মহোৎসবে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার জোরালো বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উৎসবের আনন্দ সবার জন্য সমান। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন করার পর বরাবরের মতোই জাঁকজমকপূর্ণ ‘দুর্গাপূজা কার্নিভাল’-এর মাধ্যমে বাংলার ঐতিহ্য বিশ্বদরবারে তুলে ধরা হবে। নিয়ম ও শৃঙ্খলার গণ্ডি মেনে উৎসবের আনন্দকে দ্বিগুণ করার আহ্বান জানিয়ে পুজো উদ্যোক্তা ও রাজ্যবাসীকে আগাম শারদীয়ার শুভেচ্ছা জানান তিনি।

সতর্কীকরণ (Disclaimer): এই প্রতিবেদনটি রাজ্য সরকারের নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত পুজো সমন্বয় বৈঠকের তথ্য, প্রশাসনিক নির্দেশিকা এবং আনুষ্ঠানিক প্রেস বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। 'নেটওয়ার্ক বাংলা' নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতি মেনে জনস্বার্থে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রকাশনা সংস্থা: নেটওয়ার্ক বাংলা ডিজিটাল নিউজ

সম্পাদনা ও তত্ত্বাবধান

রাহিন আলম

চিফ এডিটর, নেটওয়ার্ক বাংলা

Post a Comment

Previous Post Next Post