দেগঙ্গার চিত্ত বসু মার্কেটের দোকানে প্রশাসনের তালা, রুটিরুজি বাঁচাতে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ! সরেজমিনে চিফ এডিটর রাহিন আলমের রিপোর্ট

বাম জমানার কৃষি বিপণন মার্কেটে ১৫ বছরের বকেয়া ভাড়ার জেরে তালা; উচ্ছেদের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীদের পথ অবরোধ, রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

দেগঙ্গা, উত্তর ২৪ পরগনা (সরেজমিন গ্রাউন্ড রিপোর্ট): পুজোর মুখে প্রশাসনের এক কড়া পদক্ষেপে চরম উত্তেজনা ও তীব্র অসন্তোষ ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায়। বাম জমানায় কৃষকদের সুবিধার্থে তৈরি ঐতিহাসিক চিত্ত বসু কৃষি বিপণন মার্কেটের একাধিক দোকানে আচমকাই প্রশাসন তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ। আর এই প্রশাসনিক অভিযানের পরেই রুটিরুজি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে রাস্তায় নেমে অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন বাজারের শত শত ব্যবসায়ী। ঘটনাস্থলে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে পুরো আন্দোলনের বাস্তব চিত্র ক্যামেরাবন্দি করেছেন 'নেটওয়ার্ক বাংলা'র প্রধান সম্পাদক রাহিন আলম।

আন্দোলনরত ব্যবসায়ীদের দাবি, মূলত স্থানীয় চাষিদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সরাসরি কেনাবেচার সুবিধার জন্যই বাম আমলে এই সুপরিসর কৃষি বাজারটি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে এই মার্কেটের একাধিক দোকানের ভাড়ার লক্ষ লক্ষ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না পড়ে বকেয়া রয়েছে—মূলত এই কারণ দেখিয়েই প্রশাসন দোকানগুলিতে নোটিশ ও তালা ঝুলিয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে। এমনকি সেখানে কৃষিজাত পণ্যের জন্য নির্ধারিত জায়গায় অন্যান্য অস্থায়ী বাণিজ্যিক ব্যবসা চালানো হচ্ছিল বলেও প্রশাসনের তরফ থেকে কারণ দর্শানো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ একপেশে, অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করছেন বিক্ষোভকারী ব্যবসায়ীরা। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ, "সমস্ত নিয়ম ও বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার পরেও কোনো রকম সময় না দিয়ে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমাদের উচ্ছেদ করে চরম হয়রানি করা হচ্ছে।" সারা বছরের প্রধান ব্যবসার মুখে এভাবে হঠাৎ দোকান বন্ধ করে দেওয়ায় পরিবার নিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

অন্যদিকে, বাজারের এই অচলাবস্থা ও ব্যবসায়ীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এলাকায় শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজাও। ময়দানে নেমে বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, গত ১৫ বছর ধরে স্থানীয় শাসকদলের নেতাদের মদতেই এই কৃষি বাজারে ব্যাপক কাটমানি ও তোলাবাজি চলেছে। আর এখন সেই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মাশুল নিরীহ ব্যবসায়ীদের ঘাড়েই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। যদিও প্রশাসনের দাবি, সরকারি রাজস্ব আদায় ও নিয়ম মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে পুজোর ঠিক মুখে দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে দেগঙ্গার এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। প্রশাসনের এহেন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন তাঁরা।

সতর্কীকরণ (Disclaimer): এই প্রতিবেদনটি দেগঙ্গার চিত্ত বসু কৃষি বিপণন মার্কেটের আন্দোলনরত ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষ অভিযোগ, স্থানীয় সূত্র এবং ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। 'নেটওয়ার্ক বাংলা' নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার দায়বদ্ধতা থেকে সমস্ত পক্ষের বক্তব্য বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
অন-গ্রাউন্ড এক্সক্লুসিভ: নেটওয়ার্ক বাংলা

সরেজমিনে তথ্য ও প্রতিবেদন

রাহিন আলম

চিফ এডিটর, নেটওয়ার্ক বাংলা

Post a Comment

Previous Post Next Post