আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস: সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি, দুপুরের পর থেকেই উপকূল ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে ঝড়বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা
কলকাতা (বিশেষ আবহাওয়া বুলেটিন): উৎসবের মরশুমের মুখেই ফের বদলাচ্ছে আবহাওয়া। রাজ্যজুড়ে বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করল আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। হাওয়া অফিসের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ দিনভর কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎসহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির জেরে তাপমাত্রার পারদ কিছুটা নিম্নমুখী হলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির কারণে ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আজ রাজ্যের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসতে পারে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। বাতাসে দক্ষিণা বাতাসের প্রভাব বেশি থাকায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি চরম আকার ধারণ করতে পারে। তবে সকালের দিকে রোদের দেখা মিললেও দুপুরের পর থেকেই উপকূলীয় ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে আবহাওয়া দ্রুত বদলাতে শুরু করবে। মেঘের ঘনঘটা বৃদ্ধির পাশাপাশি শুরু হতে পারে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চার।
বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া এবং হুগলি জেলায় ঝড়বৃষ্টির তীব্রতা অন্যান্য এলাকার তুলনায় বেশি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে হাওয়া অফিস। উপকূল সংলগ্ন এলাকায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করায় এই অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার ফলে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে কলকাতায় বিক্ষিপ্তভাবে নামতে পারে মুষলধারে বৃষ্টি।
এদিকে বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকায় সাধারণ মানুষকে বৃষ্টি চলাকালীন খোলা মাঠে বা গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বজ্রবিদ্যুতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশিকা জারি করেছে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর। সব মিলিয়ে আগামী কয়েক দিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টির এই খামখেয়ালি রূপ বজায় থাকবে বলেই আবহাওয়াবিদদের অভিমত।
সম্পাদনা ও তত্ত্বাবধান
রাহিন আলম
চিফ এডিটর, নেটওয়ার্ক বাংলা
