সোশ্যাল মিডিয়ায় আশির দশকের ঝড়! কী এই ভাইরাল এআই ট্রেন্ড?

সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাৎ কেন ১৯৮০-র দশকের নস্টালজিয়া? নেটিজেনদের টাইমলাইনে কীসের এই নতুন এআই ঝড়!

চেনা মুখের রেট্রো অবতার থেকে ১৯৮৫-র টাইমস্ট্যাম্প—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাত ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিরল চার দশক আগের সোনালী দিন।

সম্প্রতি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাতা খুললেই চোখে পড়ছে এক অদ্ভুত দৃশ্য। পরিচিত মানুষ, সহকর্মী থেকে শুরু করে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব কিংবা রাজনৈতিক নেতাদের মুখচ্ছবি হঠাৎ করেই যেন চার দশক পেছনে চলে গেছে। আশির দশকের ঢিলেঢালা ব্লেজার, বড় কলারের গাঢ় রঙের শার্ট, অ্যান্টিক ঘড়ি আর ব্যাকগ্রাউন্ডে সাজানো কাঠের ক্যাবিনেটের পুরনো সিআরটি টেলিভিশন। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, প্রায় প্রতিটি ছবির এক কোণে জ্বলজ্বল করছে ১৯৮৫ বা ১৯৮৮ সালের লাল রঙের ডিজিটাল টাইমস্ট্যাম্প। নিমেষেই নেটপাড়ার টাইমলাইন রূপ নিয়েছে আশির দশকের পারিবারিক ছবির অ্যালবামে।

কিন্তু হঠাৎ কেন এই ‘রেট্রো’ উন্মাদনা? প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মূল চালিকাশক্তি হলো আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সহজলভ্য ব্যবহার। পূর্বে কোনো ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন করতে বা আশির দশকের ফিল্ম ক্যামেরার মতো আলো ও রঙ আনতে দীর্ঘ সময় ফটোশপ বা গ্রাফিক্স সফটওয়্যারে কাজ করতে হতো। বর্তমানে উন্নত এআই ফটো এডিটর ও বিশেষ ফিল্টারের সাহায্যে কেবল একটি সাধারণ সেলফি আপলোড করলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে যাচ্ছে নিখুঁত রেট্রো লুক। ছবির সাথে নেটিজেনরা যুক্ত করছেন সেই সময়ের কালজয়ী সব গান—বিশেষ করে বাপ্পি লাহিড়ী কিংবা কিশোর কুমারের পপ ও রোমান্টিক সুর, যা পোস্টগুলিকে সোশ্যাল অ্যালগরিদমে অভাবনীয় গতিতে ভাইরাল করে তুলছে।

মনোবিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, এই ট্রেন্ড জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে কাজ করছে বর্তমান প্রজন্মের ‘অ্যানালগ নস্টালজিয়া’। অতি-আধুনিক ডিজিটাল ডিভাইস, স্ক্রিন আর কৃত্রিমতার ভিড়ে মানুষ বারবার একটু সরল, আড়ম্বরহীন পুরনো দিনের আবহে স্বস্তি খোঁজে। রাজনৈতিক বিতর্ক, অভিযোগ কিংবা সামাজিক দ্বন্দ্বের বাইরে গিয়ে নিছক বিনোদন ও স্মৃতিকাতরতার অংশ হিসেবেই সাধারণ মানুষ থেকে সেলিব্রিটি—সবাই মেতে উঠেছেন এই ‘Vibing to the 80s’ ট্রেন্ডে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যেকোনো ভাইরাল ট্রেন্ডে অংশ নেওয়ার আগে এআই অ্যাপগুলির ডেটা সুরক্ষা ও প্রাইভেসি পলিসি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি, যাতে ব্যক্তিগত ছবির অপব্যবহার না ঘটে।

দাবিত্যাগ (Disclaimer): এই প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত ট্রেন্ড ও সাধারণ নেটিজেনদের আগ্রহের ভিত্তিতে তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তিবিশেষের চরিত্র বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য নয়।
খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে: নেটওয়ার্ক বাংলা এর ডেস্ক থেকে

প্রকাশক

রাহিন আলম

নেটওয়ার্ক বাংলা

Post a Comment

Previous Post Next Post