মাটিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে নিগ্রহ ও মারধরের নালিশ! অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে সরব পরিবার

মাটিয়া থানায় আন্দুলপোতা মাদ্রাসা ছাত্রীকে নিগ্রহ ও মারধরের অভিযোগের এক্সক্লুসিভ গ্রাউন্ড কভারেজ - নেটওয়ার্ক বাংলা
🔴 এক্সক্লুসিভ গ্রাউন্ড রিপোর্ট

মাটিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে নিগ্রহ ও মারধরের নালিশ! অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে সরব পরিবার, অভিযোগ অস্বীকার কর্তৃপক্ষের

হোস্টেলের ঘরে ঢুকে নিগ্রহের পর মুখ খোলায় বেধড়ক মারধরের অভিযোগ শিক্ষক সহ তিনজনের বিরুদ্ধে; সরজমিনে মাটিয়া থানা চত্বর থেকে নেটওয়ার্ক বাংলার বিশেষ কভারেজ

📹 নেটওয়ার্ক বাংলা এক্সক্লুসিভ: মাটিয়া থানার সামনে দাঁড়িয়ে সরাসরি নির্যাতিতা ছাত্রী ও তার মায়ের সঙ্গে কথা বললেন চিফ এডিটর রাহিন আলম।

মাটিয়া: উত্তর ২৪ পরগনার মাটিয়া থানা এলাকার আন্দুলপোতা মাদ্রাসা রহমানিয়ায় পঞ্চম শ্রেণির এক ১১ বছরের নাবালিকা ছাত্রীকে নিগ্রহ ও মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সহ তিনজনের বিরুদ্ধে। সুবিচারের দাবিতে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের আবেদন জানিয়ে মাটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিতার মা দীপালী নন্দী। মাটিয়া থানা প্রাঙ্গণে উপস্থিত থেকে সরাসরি ঘটনার অনুসন্ধান ও সরেজমিনে গ্রাউন্ড কভারেজ করেন নেটওয়ার্ক বাংলার চিফ এডিটর রাহিন আলম। অন্যদিকে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করে মিথ্যে দাবি করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

পোশাক বদলের সময় জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশের অভিযোগ

মাটিয়া থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত আগস্ট মাসে মাদ্রাসার হোস্টেলের ঘরে পোশাক পরিবর্তন করছিল ওই নাবালিকা ছাত্রী। সেই সময় জোর করে ঘরে ঢুকে পড়ে রাজ্জাক নামের এক শিক্ষক। ছাত্রীটি আসার জন্য নিষেধ করা সত্ত্বেও শিক্ষক ঘরে অবস্থান করে এবং তাকে নিগ্রহ করে বলে অভিযোগ। ছাত্রীটি গোটা ঘটনা নিজের মাকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বলতেই পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায়।

🗣️ ক্যামেরার সামনে নির্যাতিতা ছাত্রী (নেটওয়ার্ক বাংলাকে দেওয়া বক্তব্য):

"স্কুল থেকে এসে আমি জামাকাপড় পাল্টাচ্ছিলাম। হুজুরকে আসার জন্য বারণ করছিলাম, তাও উনি জোর করে ঢুকে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। আমি মাকে বলে দেব বলায় আমাকে মারধর করে। তারপর ভাইজানকে বলেছিলাম, কিন্তু ভাইজান বলে কারও সাথে কিছু না বলতে এবং আরও মারে।"

ঘটনা ধামাচাপা দিতে উপর্যুপরি মারধরের নালিশ

অভিযোগে জানানো হয়েছে, বিষয়টি যাতে কোনোভাবেই প্রকাশ্যে না আসে, সেজন্য শিক্ষক রাজ্জাকের সঙ্গে যোগ দেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সদস্য ইসমত হাজীর ছেলে ইয়াসিন এবং গোলাম আকবর নামের আরেক শিক্ষক। এই তিনজন মিলে নাবালিকার ওপর চড়াও হয়ে মারধর চালায়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বছরখানেক আগেই ওই নাবালিকার নাকে একটি অস্ত্রোপচার করানো হয়েছিল। মারধরের সময় সেখানে গুরুতর চোট লাগায় ছাত্রীর নাক ও মুখ দিয়ে রক্তপাত ঘটে। চরম ভয় ও আতঙ্কের কারণে দীর্ঘ এক মাস ঘটনাটি চেপে রাখতে বাধ্য হয় শিশুটি।

🗣️ নির্যাতিতার মা দীপালী নন্দীর বক্তব্য (মাটিয়া থানা চত্বরে):

"আমার ১১ বছরের মেয়ে আন্দুলপোতা মাদ্রাসা রহমানিয়ায় পড়ে। সেখানে শিক্ষক রাজ্জাক আমার মেয়ের ঘরে ঢুকে পড়ে ও নিগ্রহ করে। মেয়ে প্রতিবাদ করতেই শিক্ষক রাজ্জাক, ইসমত হাজীর ছেলে ইয়াসিন এবং আরেক শিক্ষক গোলাম আকবর মিলে ওকে মারধর করে। এক বছর আগে মেয়ের নাকে অপারেশন হয়েছিল, সেখানে আঘাত লাগায় রক্ত বের হয়। দীর্ঘ সময় ভয়ে মেয়ে কিছু বলেনি। আমি মাদ্রাসায় দেখা করতে গেলে ও কেঁদে ফেলে সব জানায়। আমরা থানায় অভিযোগ জানিয়েছি।"

অভিযোগ সম্পূর্ণ 'ভিত্তিহীন ও মিথ্যে' দাবি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের

ঘটনার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি টেলিফোনে যোগাযোগ করে নেটওয়ার্ক বাংলা। তবে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

📞 মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি ইলিয়াসের বক্তব্য (নেটওয়ার্ক বাংলাকে ফোনে):

"এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন। এটা পুরোপুরি ফলস (False), এর কোনওরকম সত্যতা বা প্রমাণ নেই।"

📌 অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি: দীর্ঘ সময় থানায় অপেক্ষার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নির্যাতিতার পরিবার। অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষক রাজ্জাক, ইয়াসিন এবং গোলাম আকবরকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে—থানায় এই সুস্পষ্ট দাবি জানিয়েছে নির্যাতিতা ছাত্রীর পরিবার।

Post a Comment

Previous Post Next Post