অভিযোগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হাতে অভিধান নিয়ে বারাসাত থানায় কুণাল ঘোষ, শোনালেন উপন্যাসের প্লট

বারাসাত থানায় হাতে অভিধান নিয়ে হাজিরা তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ
বিশেষ প্রতিবেদন | রাজ্য রাজনীতি

অভিযোগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হাতে অভিধান নিয়ে বারাসাত থানায় কুণাল ঘোষ: 'দলবদলু, বেইমান ব্যাকরণসম্মত শব্দ, কাউকে উদ্দেশ্য করে পোস্ট নয়'

নিজস্ব সংবাদদাতা | বারাসাত
আপডেট: সেপ্টেম্বর, ২০২৪

বারাসাত: নোটিস পাঠিয়ে সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নোটিস পাওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বারাসাত থানায় হাজিরা দিলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। আইও-র সামনে হাজির হয়ে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিলেন, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করলেন এবং শব্দ চয়ন নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে তদন্তকারী অফিসারের টেবিলের ওপর তুলে ধরলেন দু-দুটো মোটা অভিধান।

তদন্তকারী অফিসারকে অভিধান খুলে বোঝালেন কুণাল

বারাসাত থানায় প্রবেশের পর তদন্তকারী আধিকারিকের যাবতীয় প্রশ্নের মুখোমুখি হন কুণাল ঘোষ। তাঁর ব্যবহৃত শব্দ চয়ন নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, তা নস্যাৎ করতে তিনি সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন বাংলা শব্দকোষ ও অভিধান। থানা থেকে বেরিয়ে হাতে অভিধান দেখিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন:

"আমি আইও সাহেবকে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়েছি যে, 'বেইমান', 'দলবদলু', 'অকৃতজ্ঞ'—এই শব্দগুলো তো অভিধানে ব্যবহৃত শব্দ। এগুলো কোনও অংসসদীয় শব্দ নয়। এই যে লিখেছে—'বিশ্বাসহন্তা', 'বেইমান', 'অবিশ্বাসী', 'প্রতারক', 'প্রবঞ্চক', 'সম্বন্ধন্তত'—এগুলো সব সংস্কৃত শব্দ ও অভিধানসিদ্ধ শব্দ। দল থেকে যদি কেউ চলে গিয়ে থাকেন আর আমি কোনও শব্দ ব্যবহার করে থাকি, সেগুলো তো ব্যাকরণসম্মত। কিন্তু আমি তো এখানে তাও করিনি!"

'ভিনগ্রহের প্রাণী ও শুয়োরের মুখের ছবি, কারো নাম ছিল না'

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফেসবুক পোস্টের ব্যাখ্যা দিয়ে কুণাল ঘোষ জানান, তিনি কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি। তাঁর কথায়:

"আমাকে যে পোস্টটার জন্য ডাকা হয়েছে, তাতে একটা ভিনগ্রহের প্রাণী, শুয়োরের মতো প্রাণী রয়েছে। আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছে—আপনি লিখেছেন ওখানে 'ঘোঁৎ ঘোঁৎ করছে'। ঘোঁৎ ঘোঁৎ শব্দটা নাকি আপত্তিজনক! অপূর্ব! পুলিশের হাতেও এত সময়! যে কমপ্লেন করেছে সে কি ঘোঁৎ ঘোঁৎ করে? ফালতু আমাকে কেন ডাকা হচ্ছে? আমার পোস্টে কোনও নাম নেই, পদবি নেই। কেউ একটা কমপ্লেন করে দিল আর পুলিশ ডেকে হ্যারাস করবে?"

পোস্টটি আসলে নতুন উপন্যাসের ট্রেলার: কুণাল

নিজের লেখক ও সাংবাদিক সত্তার কথা মনে করিয়ে দিয়ে কুণাল ঘোষ জানান, এই গোটা বিষয়টি তাঁর আগামী উপন্যাসের প্লট। তিনি বলেন:

"আমি তো এটা বৈদ্যনাথ ঘোষদস্তিদার বা ঘোষদস্তিদার ফ্যামিলিকে বলিনি। পড়ল কথা সবার মাঝে, যার কথা তার গায়ে বাজে! কেউ যদি দলবদল করে ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্সে ভোগেন, আর কে কী বলছে নিজেদের গায়ে মেখে নেন—তার ঠিকা কি আমি নেব? এটা আমার পরবর্তী উপন্যাসের প্লট। এই দলবদল, এই ঘুষখোর—এগুলো প্লট। ঔপন্যাসিকরা এই প্লট ব্যবহার করেন। আমার স্বভাব হচ্ছে উপন্যাস লিখে ফেসবুকে ট্রেলারের মতো প্রোমোট করা। তদন্তকারী অফিসার অপেক্ষা করুন, উপন্যাস বেরোলে দেখতে পাবেন।"

কাকলি ঘোষদস্তিদার ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নালিশ প্রসঙ্গে তোপ

কুণাল ঘোষ সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার দলনেত্রীর কাছে নালিশ জানানোর পরেই এই পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন:

"মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়ে কেঁদেছে, মুখ্যমন্ত্রী পাঠিয়ে দিয়েছেন, আর পুলিশের সময় নষ্ট হচ্ছে। নারদার ঘুষখোর কাকলি ঘোষদস্তিদার, নারদায় সামনে টাকা নিচ্ছে, এখন ডেকে ভাবসম্প্রসারণ করছে! তৃণমূলের টিকিটে জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকে এখন শুভেন্দু অধিকারীর পায়ে গিয়ে পড়ছে যে কুণাল ঘোষকে পুলিশের কেস খাওয়াতে হবে। আমি গর্বিত যে আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের একজন সৈনিক।"

তিনি আরও যোগ করেন, "গতকাল বিকেল ৫টায় নোটিস দিয়ে সাত দিনের সময় দিয়েছিল। ২৪ ঘণ্টা কাটেনি, আমি বারাসাত থানায় এসে কমপ্লাই করেছি। চার্জশিট দেবে? দিক। আমি এসএসকেএমের পরিকাঠামো নিয়ে কথা বলেছি—সেগুলো তদন্ত হওয়া দরকার।"

উল্লেখ্য, কুণাল ঘোষের এই হাজিরা ও অভিযোগ প্রসঙ্গে বারাসাত জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

ট্যাগস: কুণাল ঘোষ বারাসাত থানা কাকলি ঘোষদস্তিদার তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতি

Post a Comment

Previous Post Next Post