বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের রাখি বন্ধন মঞ্চে এবিভিপির নগর সম্পাদক প্রীতম পাঠক! শুরু রাজনৈতিক জল্পনা
"দলের প্রোগ্রামে আসিনি, জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাংসদের ডাকে এসেছি", জল্পনা উড়িয়ে স্পষ্ট জবাব এবিভিপি নেতার
উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসাত জেলা পরিষদের নীলদর্পণ সভাকক্ষে আয়োজিত রাখি বন্ধন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য। বারাসাতের তৃণমূল সাংসদ ডাক্তার কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উদ্যোগে আয়োজিত এই সৌহার্দ্যপূর্ণ রাখি বন্ধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা গেল বারাসাত নগর এবিভিপির (ABVP) সম্পাদক প্রীতম পাঠককে। তৃণমূল সাংসদের মঞ্চে বিরোধী ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতার আকস্মিক উপস্থিতিতে জেলা রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতেই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় এবিভিপি নগর সম্পাদক প্রীতম পাঠককে। সাংবাদিকরা তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করেন— "কয়েকদিন আগেই বারাসাত গভর্মেন্ট কলেজে বিক্ষোভের সময় আপনি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ঘনিষ্ঠ তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP) নেতা সোহম পাল ও কৌশিকদের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছিলেন, আজ তাদের সঙ্গেই একই মঞ্চে আপনি উপস্থিত হলেন কীভাবে?"
এর উত্তরে প্রীতম পাঠক স্পষ্ট ভাষায় জানান, "আজকে রাখি বন্ধন উৎসব, আর সেই উৎসব উপলক্ষে ম্যাম (সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার) আমাদের ডেকেছিলেন। সেই আহ্বানেই আমরা এখানে এসেছি। উনি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি (সাংসদ)। সেই জায়গায় কে আসবেন বা কে আসবেন না, সেটা তো আমাদের ঠিক করার বিষয় নয়।"
এরপর সাংবাদিকদের তরফে প্রশ্ন করা হয়— "তাহলে কি আপনি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রোগ্রামে এসেছেন, নাকি একজন সাংসদের আহ্বানে এসেছেন?" প্রীতম পাঠক জানান, তিনি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে আসেননি; এলাকার নির্বাচিত সাংসদ হিসেবে ডাক্তার কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ডাকেই তিনি সাড়া দিয়েছেন।
সাংবাদিকরা আরও জানতে চান— "গতকালই তৃণমূল ও এবিভিপির মধ্যে ঝামেলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে আপনারা আহতও হয়েছিলেন। সেখানে দাঁড়িয়ে আজ এই সাক্ষাৎ কতটা তাত্পর্যপূর্ণ? আপনারা কি কোনো দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বললেন?"
উত্তরে তিনি বলেন, "আমরা বিভিন্ন সমস্যা, সুবিধা-অসুবিধা ও ছাত্র স্বার্থের নানান বিষয় নিয়ে কথা বলতেই এসেছি। কারণ উনি একজন জনপ্রতিনিধি। সবেমাত্র সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ হয়েছে, অনুষ্ঠান শেষ হলে ওনার সঙ্গে ছাত্রস্বার্থ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কথা হবে।"
ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এবিভিপি নেতা বলেন, "আমরা যে আদর্শ ও ভাবধারা নিয়ে চলছি, তা বজায় রেখে যদি কাজ করা সম্ভব হয়, তবে ভবিষ্যতে কেন নয়?"
সবশেষে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল— "তৃণমূল সাংসদের এই মঞ্চে আসার বিষয়টি কি এবিভিপির উচ্চ নেতৃত্ব জানে?" তার উত্তরে প্রীতম পাঠক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, "আমি বারাসাতের একজন স্থায়ী বাসিন্দা, আর উনি এখানকার নির্বাচিত সাংসদ। তাই ওনার সাথে কথা বলতে আসার জন্য আলাদা করে কাউকে জানানোর বিষয় থাকে না। তবে হ্যাঁ, দলের উচ্চ নেতৃত্ব সব বিষয়টাই অবগত রয়েছে।"
প্রকাশের মাধ্যম: নেটওয়ার্ক বাংলা
তারিখ: ২৯ আগস্ট, ২০২৬
সম্পাদক ও প্রকাশক
রাহিন আলম
নেটওয়ার্ক বাংলা
