বসিরহাটে ওভারলোডিং ও কাটমানির প্রতিবাদে ট্রাক মালিকদের বিক্ষোভ, এআরটিও-কে ডেপুটেশন
নিয়ম অমান্য করে ওভারলোড গাড়ি চালানো এবং 'এন্ট্রি' প্রথার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবিতে সরব বসিরহাট সাব-ডিভিশন ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
বসিরহাট: ওভারলোড গাড়ি চলাচল এবং 'কাটমানি' বা 'এন্ট্রি' প্রথার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বসিরহাট এআরটিও (A.R.T.O.) এবং এসডিও (S.D.O.) অফিসে ডেপুটেশন জমা দিলেন ট্রাক মালিকরা। ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ তারিখে 'বসিরহাট সাব-ডিভিশন ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন'-এর পক্ষ থেকে এআরটিও-র কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়。
বসিরহাটের ট্রাক মালিক সুপ্রদীপ্ত ঢালীর অভিযোগ, আলিপুর, বেলতলা, ডায়মন্ড হারবার এবং বারুইপুর আরটিও-তে (RTO) পণ্যবাহী গাড়ির জন্য প্রতি মাসে কাটমানি দিয়ে 'এন্ট্রি' প্রথা চালু ছিল। এই বিপুল পরিমাণ কাটমানির চাপে গাড়ি মালিকরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে তিনি জানান। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁরা এই দুর্নীতির অবসান চান এবং সমস্ত গাড়ি যেন নির্দিষ্ট নিয়মে বা 'আন্ডারলোড'-এ চলে, তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা জানান, ওভারলোডের কারণে যেমন গাড়ির মারাত্মক ক্ষতি হয়, তেমনি সরকারি রাস্তাও দ্রুত নষ্ট হয় এবং যানজট বাড়ে। দুর্নীতি ও ওভারলোডিং বন্ধ করতে তাঁরা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন。
এআরটিও-কে দেওয়া চিঠিতে অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে যে, বসিরহাট, হাসনাবাদ ও মিনাখাঁ এলাকার অধিকাংশ গাড়ি মালিক নির্দেশ মেনে ওভারলোড গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছেন। কিন্তু কিছু সংখ্যক অসাধু মালিক সেই নির্দেশ অমান্য করে কলকাতা ও অন্যান্য স্থান থেকে ওভারলোড পণ্য বহন করছেন। এর ফলে যারা নিয়ম মেনে গাড়ি বসিয়ে রেখেছেন, তারা ব্যবসায়িক ভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিক্ষোভরত মালিকরা জানান, মালঞ্চ এলাকায় গত প্রায় দেড়-দু'মাস ধরে ট্রাক ধর্মঘট চলছে এবং ভেবিয়া এলাকাতেও কিছু গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। তা সত্ত্বেও মিনাখাঁ, মালঞ্চ, ঘুসীরঘাটা, হাসনাবাদ, টাকির মতো এলাকা দিয়ে দালালদের মাধ্যমে টাকা দিয়ে ওভারলোড গাড়ি অবাধে যাতায়াত করছে বলে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে。
অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে সাফ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অবিলম্বে এই নিয়ম ভঙ্গকারী ওভারলোড গাড়িগুলির বিরুদ্ধে প্রশাসন কড়া আইনি ব্যবস্থা না নিলে, মালিকপক্ষ নিজেরাই বাধ্য হয়ে সেই গাড়িগুলি আটকে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন。
প্রকাশক
রাহিন আলম
নেটওয়ার্ক বাংলা
