দেগঙ্গায় প্রকাশ্যে মদ বিক্রির প্রতিবাদ, প্রতিবাদীকে বেধড়ক মারধর! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য
ঘটনাটি ঘটেছে দেগঙ্গা থানার বেড়াচাঁপা আলুনি ঘোষপাড়া এলাকায়। আক্রান্ত প্রতিবাদীর নাম পরেশ ঘোষ। প্রকাশ্য দিবালোকে এই নির্মম মারধরের মুহূর্তের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা ঘিরে এলাকায় ছড়িয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি নেটওয়ার্ক বাংলা)।
আক্রান্ত প্রতিবাদী পরেশ ঘোষ (নিজস্ব চিত্র)
কী ঘটেছিল সেদিন?
আক্রান্ত পরেশ ঘোষের অভিযোগ, কার্তিক পাড়ুই নামে এক ব্যক্তি এলাকার মধ্যে প্রকাশ্যে মদ, গাঁজা সহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় জিনিস বিক্রি করে। সেইসব নেশাগ্রস্তরা প্রতিনিয়ত পাড়ার মহিলাদের কটূক্তি করে বলেও অভিযোগ। পাড়ার মধ্যে এসব অসামাজিক কাজের তীব্র প্রতিবাদ করেন পরেশবাবু। আর তার জেরেই অভিযুক্ত কার্তিক তাঁকে ভাঙা বেঞ্চের পায়া নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
"মদ বিক্রি করছে, আমি প্রতিবাদ করতে গেছি বলে আমারে হদ্দ মার মেরেছে... এমন মার মেরেছে আমি রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম। একটা বেঞ্চি তুলে, বেঞ্চিটা ভেঙে আমার পিঠে হদ্দ মার মেরেছে।"
- পরেশ ঘোষ (আক্রান্ত প্রতিবাদী)
মারধরের জেরে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান ওই প্রতিবাদী। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্বনাথপুর গ্ৰামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বারাসত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জানা গেছে, মারধরের ফলে তাঁর মাথায়, পিঠে এবং পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে।
"আমার স্বামী বলছিল তুই এখানে মাল বিক্রি করছিস কেন, এই বলার জন্য আমার স্বামীকে হদ্দ মার মেরেছে। বেঞ্চির পায়া দিয়ে মেরেছে... বারাসাতে নিয়ে গেলাম, সেলাই, ইনজেকশন সব দিল।"
- লক্ষ্মী ঘোষ (আক্রান্তের স্ত্রী)
রাজনৈতিক তরজা ও পুলিশি পদক্ষেপ
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দেগঙ্গা থানায় অভিযুক্ত কার্তিক পাড়ুইয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি নেত্রী দীপিকা চ্যাটার্জী অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমল থেকেই এই ধরনের অসামাজিক কাজকর্ম চলছে, আর প্রশাসন বদলাতেই তারা দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। এখন দেখার, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঠিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
খবর প্রকাশক: রাহিন আলম
