মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কড়া অ্যাকশন! বাদুড়িয়ার নামী রেস্তোরাঁয় হানা দিয়ে উদ্ধার কিলো কিলো পচা মাংস
ফ্রিজ খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারী আধিকারিকদের, তীব্র চাঞ্চল্য দিদিমণি রোড এলাকায়
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই রাজ্যজুড়ে হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলিতে শুরু হয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের ঝটিকা তল্লাশি। এরই মাঝে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার একটি নামকরা রেস্তোরাঁয় হানা দিয়ে উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ পচা ও বাসি মাংস। ঘটনাটি ঘটেছে বাদুড়িয়া পৌরসভার অন্তর্গত দিদিমণি রোড সংলগ্ন এলাকার রঙ্গিলা পাঞ্জাব হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁয়। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর, বাদুড়িয়া পৌরসভা এবং বাদুড়িয়া থানার পুলিশের যৌথ অভিযানে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে।
অভিযান চলাকালীন রেস্তোরাঁর ফ্রিজ খুলতেই চোখ কপালে ওঠে খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক ও পুলিশ কর্মীদের। ফ্রিজের ভেতর প্যাকেট ভর্তি করে মজুত রাখা ছিল কেজি কেজি পচা, বাসি এবং দুর্গন্ধযুক্ত খাসি ও ব্রয়লার মুরগির মাংস। তদন্তকারীদের অনুমান, এই মাংসগুলি দীর্ঘদিন ধরে ফ্রিজে রেখে সাধারণ ক্রেতাদের খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করা হচ্ছিল। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের উপস্থিতিতে উদ্ধার হওয়া সমস্ত পচা মাংস সঙ্গে সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করে বড় কালো প্যাকেটে সিল করা হয় এবং নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে শোকজ নোটিশ জারি করেছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, এর আগেও রাজ্যজুড়ে তোলপাড় ফেলা কুখ্যাত ‘ভাগাড়ের মাংস’ চক্রের তদন্তে এই বাদুড়িয়ার নামই প্রথম সারিতে উঠে এসেছিল। বাদুড়িয়ার একটি গোপন ডেরা থেকে সেই সময় টন টন পচা মাংস উদ্ধার করেছিল পুলিশ, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র শোরগোল পড়ে যায় এবং গ্রেফতার হয় একাধিক ব্যক্তি। ফের সেই একই বাদুড়িয়ায় নামকরা রেস্তোরাঁ থেকে পচা মাংস উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
“উনার এখানে তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর বাসি ও পচা মাংস পাওয়া গেছে। আমরা সমস্ত মাংস বাজেয়াপ্ত করেছি। এগুলো অনেক দিন আগের মাংস। মিউনিসিপ্যালিটি, ফুড সেফটি অফিসার এবং পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই তা সিজ করা হয়েছে। এই বিষয়ে আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।”
“এখানে খাদ্য দপ্তর, পুলিশ প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য দপ্তর যৌথভাবে আজ অভিযান চালিয়েছে। এই রঙ্গিলা পাঞ্জাব রেস্তোরাঁয় হানা দিয়ে যা প্রকাশ্যে এসেছে তা অত্যন্ত তাজ্জব ব্যাপার! মানুষের স্বাস্থ্যের তোয়াক্কা না করে এখানে পচা চিকেন এবং পচা মাটন মজুত করে মানুষকে খাওয়ানো হচ্ছিল। এটা মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। আমরা প্রশাসনের কাছে এই সমস্ত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
পুলিশ ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, জনস্বাস্থ্যের সাথে ছিনিমিনি খেলার এই ঘটনায় কোনো রকম আপস করা হবে না। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এলাকার অন্যান্য রেস্তোরাঁতেও এই ধরনের নজরদারি ও অভিযান জারি থাকবে।
প্রকাশক
রাহিন আলম
নেটওয়ার্ক বাংলা
