সাপের কামড়ে মৃত্যু: AVS চালুর দাবি নওশাদের

সাপের কামড়ে রেকর্ড মৃত্যু! রাজ্যে পুনরায় AVS উৎপাদন চালুর দাবি জানালেন নওশাদ সিদ্দিকী প্রতিবেদন: নেটওয়ার্ক বাংলা (Network Bangla) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশনে সাপের কামড়ে মৃত্যু এবং 'অ্যান্টি ভেনম সিরাম' (AVS)-এর অকার্যকারিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা তুললেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। বিধানসভার স্পিকারের কাছে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি অবিলম্বে বাংলায় পুনরায় এভিএস (AVS) উৎপাদন শুরু করার জোর দাবি জানান। ভিনরাজ্যের এভিএস (AVS) কেন কাজ করছে না? বক্তব্যে বিধায়ক জানান, ইতিপূর্বে আমাদের রাজ্যেই (বেঙ্গল কেমিক্যালসে) এভিএস বা সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরি হতো, কিন্তু তা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে তামিলনাড়ু ও তেলেঙ্গানা থেকে এভিএস নিয়ে এসে চিকিৎসা চালানো হচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থানগত পার্থক্যের কারণে তামিলনাড়ুর 'রাসেলস ভাইপার' এবং পশ্চিমবঙ্গের 'রাসেলস ভাইপার'-এর বিষের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে ভিনরাজ্য থেকে আনা এভিএস আমাদের রাজ্যের রোগীদের শরীরে সঠিকভাবে কাজ করছে না এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন—এই বিষয়টি তিনি স্পিকারের সামনে তুলে ধরেন। উদ্বেগের পরিসংখ্যান: জাতীয় স্বাস্থ্য প্রোফাইল (National Health Profile) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সংসদীয় রিপোর্টের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান: * দেশে প্রতি বছর ৫০ থেকে ৫৮ হাজার মানুষ সাপের কামড়ে মারা যান। * এই মোট মৃত্যুর ১৯.৭ শতাংশ মৃত্যুই ঘটে আমাদের পশ্চিমবঙ্গে। * প্রতি বছর পশ্চিমবঙ্গে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। * ২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় রিপোর্ট অনুযায়ী, সাপের কামড়ে মৃত্যুর নিরিখে দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ শীর্ষে রয়েছে। উপদ্রুত এলাকা ও মূল দাবি: বর্ষার মরসুমে ভাঙড়সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং নদীয়া জেলায় সাপের কামড় এক মারাত্মক গ্রামীণ সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। তাই সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির স্বার্থে 'বেঙ্গল কেমিক্যালস'-এ আগের মতো পুনরায় অ্যান্টি ভেনম সিরাম (AVS) তৈরি চালু করার জন্য স্পিকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়। -------------------------------------------------- ডিসক্লেমার (Disclaimer): এই সংবাদ প্রতিবেদনটি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্য ও পেশ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। জনস্বার্থে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরাই এই প্রতিবেদনের মূল উদ্দেশ্য।

Post a Comment

Previous Post Next Post